শুক্রবার, ১৮ এপ্রিল, ২০১৪

কুয়াকাটায় সাংগ্রাং উৎসবে মানুষের ঢল

অনলাইন ডেস্ক: দুইশত বছরের পুরনো রাখাইন সমপ্রদায়ের সাংগ্রাং(নববর্ষ)
১৩৭৬ সাল উদযাপন
উপলক্ষে রাখাইন অধুষ্যিত
কলাপাড়ার পর্যটনকেন্দ্র
কুয়াকাটা সংলগ্ন
গোড়া আমখোলা পাড়া এখন
উৎসবমুখর। নতুন বছরকে বরন
করে নিতে এবার উপকূলীয়
রাখাইন সমপ্রদায়ের এ
জলকেলী উৎসবকে ঘিরে রাখাইন
তরুণ-তরুণীরা মাতোয়ারা হন। জল
উৎসবের মধ্য দিয়ে মারমা তরুণ-
তরুণীরা একে অপরের
প্রতি ভালোবাসা প্রকাশ
করেন। শুক্রবার থেকে শুরু
হওয়া তিনদিন ব্যাপী এ উৎসব
দেখতে রাখাইন
পাড়াগুলোতে ভীড়
করছে হাজার হাজার মানুষ।
উৎসবে অপ্রীতিকর
ঘটনা এড়াতে আমখোলা পাড়ায়
অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন
করা হয়েছে ।
উপকূলীয় কলাপাড়া ও
তালতলী অন্তত ২৫টি পাড়ার
রাখাইন সমপ্রদায়ের
অংশগ্রহনে রাখাইন
জলকেলী উৎসব উদযাপন কমিটি,
ইয়ুথ ফোরাম এবং আইসিডিপি এ
জলকেলী উৎসব আয়োজন করে।
রাখাইন
সমপ্রদায়ে আয়োজনে নববর্ষ
উদযাপন করলেও তাদের লক্ষ্য
পুরাতন বছরের
গ্লানি মুছে ফেলে নতুন
বছরকে বরণ করে নেওয়া। বর্ণিল
আয়োজনে সাংগ্রাই জল উৎসব
উদযাপনকে ঘিরে প্রতিটি রাখাইন
পাড়ায় ছিল উৎসবের আমেজ।
আয়োজকরা জানান, রাখাইন
সমপ্রদায়ের প্রধান সাংগ্রাই
উৎসবে অংশ নিতে রাখাইন
সমপ্রদায়সহ বিভিন্ন ক্ষুদ্র
নৃগোষ্ঠীর নারী-পুরুষ জড়ো হন
গোড়া আমখোলা পাড়ায়।
উৎসবে তরুণ-তরুণীরা ঐতিহ্যগত
পানি খেলায় মেতে উঠেন।
প্রতিযোগিতামুলক একে-অপরের
গায়ে পানি ছিটিয়ে তারা আনন্দে মেতে থাকেন
পুরো দিন। একই সময়ে উৎসব
মঞ্চে চলে রাখাইন নিজস্ব
সংস্কৃতির নাচ ও গানের
অনুষ্ঠান। এখানে তরুণ-তরুণীদের
পরিবেশনায় জাই, পাংখুং,
কাপ্যাং, রোদুক, চাগায়াং,
লোন্ডিং, জুম, রোরাং নৃত্য
পরিবেশন করা হয়।
রাখাইন
কিশোরী ন্যানে জানায়,
এবারই প্রথম এই পাড়ায়
সাংগ্রাং উৎসব হয়। এতো বছর পর
এখানে এ উৎসব হওয়ায় তারা খুবই
আনন্দিত। চার মাসের শিশু
ওয়েমং কে কোলে নিয়ে অনুষ্ঠানে আসা মোয়েমং জানায়,
এই উৎসব এখন সার্বজনীন। সকল
ধর্মের মানুষ তাদের এই
উৎসবে আসে।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন