নিজস্ব প্রতিবেদক: দেশে ক্রমাগত খুন, গুম, অপহরণ প্রতিরোধে দলের সকল নেতাকর্মীদের ১০টি পরামর্শ দিয়েছে বিএনপি।
শুক্রবার বিকেল ৪টায় গুলশানের রাজনৈতিক কার্যালয়ে জরুরি এক সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এসব পরামর্শ দেন।
মির্জা ফখরুল নেতাকর্মীদের পরামর্শ দিয়ে বলেন, “আপনারা জানেন, এই পটভূমিতে আমাদের নেত্রী, বাংলাদেশের গণমানুষের নেত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া মহান মে দিবসে ঢাকার ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের বিশাল শ্রমিক জনসভার ভাষণে সারাদেশে সাংগঠনিক ‘রেড এলার্ট’ বা সর্বোচ্চ সতর্কাবস্থা জারী করেছেন। তাঁর এই সময়োপযোগী, মানুষের জীবনের নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেয়ার জন্য আমরা তাঁকে অভিনন্দন জানাই। জনগণের নিরাপত্তার দাবিতে তিনি নিজেও পথে নামার যে ঘোষণা দিয়েছেন, আমরা তাঁর জন্যও দেশনেত্রীকে ধন্যবাদ জানাই। দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সাংগঠনিক সর্বোচ্চ সতর্কাবস্থা কার্যকর করার জন্য আমরা সারা দেশে বিএনপি এবং এর সকল অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের প্রতিটি স্তরের ও শাখার নেতা-কর্মীদের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানাচ্ছি।”
বিএনপির ১০ টি পরামর্শ
-------------------
১। প্রত্যেকের আওতাধীন এলাকায় লিফলেট, পোস্টার, সভা, মতবিনিময়সহ বিভিন্ন পন্থায় অপহরণ-গুম-হত্যা সম্পর্কে জনগণকে সচেতন এবং এসব অপরাধের বিরুদ্ধে গণপ্রতিরোধ গড়ে তুলুন।
২। চলাফেরায় সতর্ক থাকুন। একা চলাচল এবং নির্জন ও অনিরাপদ স্থানগুলো এড়িয়ে চলুন।
৩। নেতারা কর্মীদের, কর্মীরা নেতাদের এবং সকলে মিলে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তার দিকে খেয়াল রাখুন। যতদূর সম্ভব পারষ্পরিক যোগাযোগ বজায় রেখে চলুন।
৪। প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিক, মানবাধিকার কর্মী এবং আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর স্থানীয় কর্মকর্তাদের ফোন নম্বর ও যোগাযোগের ঠিকানা সংগ্রহে রাখুন। কোনো ঘটনা ঘটলে দ্রুত তাদেরকে জানান। দলের নেতা-কর্মীদেরও ফোনে বা এসএমএস-এর মাধ্যমে জানিয়ে দিন।
৫। বিএনপির সদর দফতরের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখুন। প্রতিটি ঘটনার রিপোর্ট কেন্দ্রকে জানান।
৬। কোথাও অপহরণের উদ্যোগের সংবাদ পেলে যত বেশি সংখ্যক লোক মিলে দ্রুত সেখানে উপস্থিত হোন। মিলিতভাবে প্রতিরোধের চেষ্টা করুন।
৭। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পরিচয়ে কাউকে আটক করে নিয়ে যাবার চেষ্টা হলে তাদের পরিচয় সম্পর্কে এবং আটক ব্যক্তিকে কোথায় নেয়া হচ্ছে, সে সম্পর্কে নিশ্চিত হোন।
৮। আটক ব্যক্তিকে যেখানে নেয়া হচ্ছে সেখানে সদল বলে গিয়ে দায়িত্বশীলদের সঙ্গে কথা বলুন এবং কি অভিযোগে এবং কোন মামলায় গ্রেফতার করা হয়েছে তা জানার চেষ্টা করুন। কবে তাকে আদালতে সোপর্দ করা হবে তা-ও জেনে নিন। পারলে সাংবাদিক ও ‘গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সঙ্গে নিন।
৯। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর ভুয়া পরিচয় দিলে তাদেরকে প্রতিরোধ করুন। পুলিশে খবর দিয়ে তাদেরকে পুলিশের হাতে তুলে দিন।
১০। ভিকটিম পরিবারের পাশে দাঁড়ান। তাদের বিবরণ সংবাদ মাধ্যমে তুলে ধরুন। গুম, অপহরণ, খুনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ-কর্মসূচি স্থানীয় ভিত্তিতে গ্রহণ ও পালন করুন। অন্যান্য রাজনৈতিক দল ও সামাজিক সংগঠনকে এই প্রতিবাদ আন্দোলনে সম্পৃক্ত করুন।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন