শনিবার, ৩ মে, ২০১৪

পটুয়াখালীতে মানসুর হত্যার আসামীদের ফাঁসির দবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন

পটুয়াখালী প্রতিনিধি: বিধবা মায়ের একমাত্র পুত্র সন্তান স্কুল ছাত্র মানসুর হত্যা মামলায় আসামীদের ফাঁসির দাবীতে বিক্ষোভ মিছিল মানববন্ধন এবং জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি দিয়েছে মৌকরন ও দুমকি উপজেলার শত শত মটর সাইকেল চালক ও  ভ্যান চালক এবং টমটম চালক শ্রমিকরা।

বুধবার সকাল ১০টায় দুমকি ও মৌকরন এলাকা থেকে মোটর সাইকেল, ভ্যান ও টমটম চালিয়ে শত শত শ্রমিক সোনালী ব্যাংক ভবনের সামনে জমায়েত হয়ে  মানববন্ধন শেষে বিক্ষোভ মিছিল বেরকরে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ প্রদর্শন করে এবং জেলা প্রশাসক অমিতাভ সরকারের কাছে একটি স্মারক লিপি পেশ করা হয়। স্মারকলিপি গ্রহনকালে মেধাবী শিক্ষার্থী মানসুর হত্যা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার হবে এ আশ্বাস দেন জেলা প্রশাসক অমিতাভ সরকার।

লাউকাঠি ইউনিয়নের মহিলা মেম্বর কোহিনুর রেজভী স্বাক্ষরিত জেলা প্রশাসকের কাছে দেয়া স্মারক লিপিতে বলা হয়েছে নিহত মানসুর তিনবছর বয়সে পিতাকে হারিয়ে  বিধবা মায়ের সাথে তিন বোন সহ চার ভাইবোন অনাহারে অর্ধাহারে দিন কাটায়।  লেখাপড়ার পাশাপাশি মানসুর নানা পশোর কাজ করে সংসারের দারিদ্রতা দুর করতো। মানসুর জীবনকে প্রতিষ্ঠিত করার লক্ষ্যে নিয়মিত স্কুলে যেত এবং পরীক্ষায় ভাল রেজাল্ট করত। মানসুর রাতে পড়ার জন্য মৌকরন বাজারের লাইট পোস্টের নিচে বই নিয়ে পড়তে বসত। বাজারে সকলের স্নেহ ও ভালবাসায় সিক্ত মানসুর অত্যন্ত ভদ্র, নম্র, ও শান্ত স্বভাবের ছেলে ছিল। দিন মজুর কাজ করে লেখাপড়ায় কস্ট মনে করে হত্যা ঘটনার ১০/১২দিন আগে স্থানীয় শুভাকাংখীদের সহায়তায় ও এনজিও থেকে লোন টাকা এনে একটি পুরনো মোটর সাইকেল কিনে ভাড়ায় চালিয়ে আয় রোজগার শুরু করে মানসুর।

ঘটনার দিন ২৫ এপ্রিল দিবাগত রাত ৮টার দিকে মৌকরন কলেজ রোড হতে মুন্না ও ফয়সাল নামে দুই যুবক দুমকিতে মোটর সাইকেলে যাবার কথা বলে মানসুরকে ভাড়ায় নিয়ে যায়। রাতে বাসায় ফিরে না আসায় মানসুরকে অনেক খোঁজা খুজি করে না পেয়ে পরদিন পটুয়াখালী সদর থানায় একটি জিডি করা হয়। তিনদিন পর ২৮এপ্রিল দুমকি উপজেলার মুরাদিয়া ইউনিয়নের কদমতলী এলাকায় লোহালিয়া নদীতে ভাসমান অবস্থায় মানসুরের ক্ষতবিক্ষত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন